কলকাতা, ১৩ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে নিছক উৎসব নয়, আবেগের অন্য নাম। সারা বছরের অপেক্ষা, নতুন পোশাক, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা আর উৎসবের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে এই কয়েকটি দিনেই যেন নতুন করে বাঁচে বাংলা। তবে ২০২৬-এর দুর্গাপুজোর আবহে জুড়েছে বাড়তি রাজনৈতিক তাৎপর্য। রাজ্যে পালাবদলের পর এটাই প্রথম শারদোৎসব। আর সেই উৎসবের মধ্যেই বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সূত্রের খবর, মহাসপ্তমীর সকালে বেলুড় মঠ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শাহের পুজো-সফর শুরু হবে। সেখান থেকে তাঁর যাওয়ার কথা বালির দেশবন্ধু ক্লাবের দুর্গাপুজোয়। এরপর কলকাতায় ফিরে সৌজন্য-সাক্ষাৎ সেরে চেতলার ২৪ পল্লির পুজো মণ্ডপে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। দুপুর দেড়টা নাগাদ সেখানে পৌঁছতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চেতলা থেকে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য শোভাবাজার রাজবাড়ি। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখার পর শ্রীভূমির মণ্ডপেও যাওয়ার কথা শাহের।
এক দিনে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পুজো থেকে শুরু করে কলকাতার জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপ বিভিন্ন ধরনের আয়োজন ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর সফরসূচিতে। যদিও এই কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে সরকারি ঘোষণা বা চূড়ান্ত সূচি সামনে না আসা পর্যন্ত সময়সূচিতে বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ বারের পুজোকে ঘিরে রাজ্য সরকারের আয়োজনেও রয়েছে বাড়তি নজর। মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত মেগা অনুষ্ঠানের প্রশংসা শোনা গিয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রাথমিকভাবে ওই অনুষ্ঠানেই শাহের উপস্থিত থাকার কথা জানা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর সফর বাতিল হয়। ফলে মহালয়ায় তাঁকে দেখতে না পাওয়ার পর মহাসপ্তমীতে তাঁর বাংলা সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আবেগের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই উৎসবের আবহে শাহের মণ্ডপ-পরিক্রমা কতটা রাজনৈতিক তাৎপর্য পায়, তা দেখার অপেক্ষা। আপাতত নজর তাঁর ঠাসা সফরসূচিতে বেলুড় মঠ থেকে শোভাবাজার, চেতলা হয়ে শ্রীভূমি।





