খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ SIR হেয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে গোসাইরহাটে বৃহত্তর প্রতিবাদ সভার আয়োজন করল গোসাইরহাট অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস। গোসাইরহাট জুনিয়ার বেসিক প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সভাস্থলে বিভিন্ন স্লোগান, ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
এই প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, জেলা তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, প্রাক্তন বিধায়ক হিতেন বর্মন, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থ প্রতিম রায়, শীতলকুচি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তপন কুমার গুহ, মাথাভাঙ্গা–১ ব্লক সভাপতি মহেন্দ্রনাথ বর্মন, শীতলকুচি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মদন বর্মন-সহ একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অরূপ চক্রবর্তী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “SIR হেয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে বারবার ডেকে এনে হয়রানি করা হচ্ছে। গ্রামের গরিব মানুষ, কৃষক, পরিযায়ী শ্রমিক ও বয়স্ক নাগরিকরা দিনের পর দিন কাজ ফেলে হেয়ারিংয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তাঁদের জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
অরূপ চক্রবর্তী আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে এই ধরনের হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ও জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল ভোটাধিকার। সেই অধিকার দুর্বল করার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে। প্রাক্তন বিধায়ক হিতেন বর্মনও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন।
সভা শেষে তৃণমূল নেতৃত্বরা একযোগে আন্দোলন জারি রাখার ডাক দেন এবং মানুষের স্বার্থে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন। শান্তিপূর্ণভাবে সভা সম্পন্ন হলেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের বার্তা ছিল স্পষ্ট।





