খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারিঃ ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুরনো প্রকল্পকেই নতুন করে ঘোষণা করে বাংলার মানুষের সঙ্গে ‘ফাঁকিবাজি’ করা হয়েছে। বিশেষ করে ডানকুনি–সুরাট পণ্য করিডর বা ফ্রেট করিডরের ঘোষণাকে নিশানা করেন তিনি। রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বাজেট বক্তৃতা শেষ করার পরই দিল্লি যাওয়ার পথে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এই সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ডানকুনি থেকে পশ্চিম ভারতে পণ্য করিডর তৈরির প্রস্তাব কোনও নতুন বিষয় নয়। তাঁর কথায়, “ডানকুনির পণ্য করিডর নতুন কিছু নয়। আমি ২০০৯ সালের রেল বাজেটেই এই ঘোষণা করেছিলাম।” উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ডানকুনি থেকে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা পর্যন্ত একটি পণ্য করিডর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা। সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ও বাণিজ্যে বড় সুবিধা হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাজ কার্যত এগোয়নি।
এবার কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য যে তিনটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যেই রয়েছে এই ডানকুনি করিডর। তবে নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত কার্গো ফ্রেট করিডর তৈরি হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুরনো প্রকল্পকেই নতুন নাম ও নতুন মোড়কে তুলে ধরা হয়েছে।
বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বাজেটকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বলেন, “এই বাজেট দিশাহীন, মহিলা-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, দরিদ্র-বিরোধী ও জনবিরোধী। বাংলাকে কিছুই দেয়নি।” আরও কড়া ভাষায় তাঁর মন্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যের স্তূপ টকিং বিগ বিগ, ডুয়িং নাথিং, হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট।”
উল্লেখ্য, বাজেটের পরদিনই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এসআইআর ইস্যুতে নিজের আপত্তি জানাতে তিনি মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। বাজেট ও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে মমতার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।





