কলকাতা, ২৫ ডিসেম্বরঃ একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য সফরকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপিতে সাজ সাজ রব, অন্যদিকে দলের অন্দরে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন উপলক্ষে ন্যাশনাল লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামে বিজেপি নেতাদের পুনর্মিলন সভার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি দিলীপ ঘোষকে। বিষয়টি ঘিরে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা ও ক্ষোভ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘বসে যাওয়া’ ও ‘বাদ পড়া’ পুরনো নেতা-কর্মীদের ফের সক্রিয় করাই এই পুনর্মিলন সভার মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে প্রায় দেড় হাজার প্রাক্তন প্রার্থী, জেলা সভাপতি ও পদাধিকারীকে ডাকা হয়েছে। অথচ বিজেপির এক সময়ের ‘পোস্টার বয়’ দিলীপ ঘোষের নাম তালিকায় না থাকায় দলের আদি নেতাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, যাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপির উত্থান এবং যাঁকে সামনে রেখে একসময় ১৮টি লোকসভা আসন জিতেছিল দল, তাঁকেই কেন এভাবে ব্রাত্য করা হল?
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নতুন রাজ্য কমিটির তালিকা দিল্লিতে জমা দিয়েছেন। ২৯ ডিসেম্বর রাতে কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁর সফরের পরেই নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা হতে পারে। ফলে কে থাকছেন, কে বাদ পড়ছেন তা নিয়ে দলে উৎকণ্ঠা তুঙ্গে।
এদিকে অমিত শাহের সফর ঘিরে যুব মোর্চা বিমানবন্দর থেকে সল্টলেক পর্যন্ত ৪–৫ হাজার বাইকের বিশাল মিছিলের পরিকল্পনা করেছে। শক্তি প্রদর্শনের এই প্রস্তুতির মাঝেই দিলীপ ঘোষের ব্রাত্য হওয়া নিয়ে দলের অন্দরে চাপা কানাঘুষো চলছে। এখন প্রশ্ন, কলকাতায় এসে অমিত শাহ কি এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে কোনও কড়া বার্তা দেবেন?





