খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ জানুয়ারিঃ প্রতি নির্বাচনের আগেই জঙ্গলমহল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলায় তৃণমূল-বিজেপির কড়া টক্কর দীর্ঘদিনের। অতীতের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপির ফল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে বলেই ইঙ্গিত মিলল শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায়।
‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির আওতায় রণসংকল্প সভায় যোগ দিতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিলেন দুই নেতা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন বিজেপি ব্লক সভাপতি কালীপদ রায়, যিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর শাসক শিবিরে তাঁর প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একইসঙ্গে তৃণমূলে যোগ দেন বাঁকুড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল।
জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলবদলের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর মন্তব্য, “কোনও ভদ্র, শিক্ষিত, মার্জিত মানুষ বিজেপি করে না।” পাশাপাশি তিনি বাঁকুড়ায় ফের ঘাসফুলের জোয়ার ফেরানোর ডাক দেন।
বর্তমানে বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি তৃণমূলের দখলে, বাকি সাতটি বিজেপির। এই প্রেক্ষাপটে অভিষেকের লক্ষ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়াকে ‘১২-০’ করা। তাঁর বক্তব্য, “দু’টো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে। তৃণমূল জিতলে অধিকার মিলবে, বিজেপি জিতলে বঞ্চনা আর সাম্প্রদায়িক সংঘাত।”
এই জোড়া যোগদান ঘিরে শালতোড়া-সহ গোটা বাঁকুড়া জেলাজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। অনেকেরই মত, এই ঘটনা জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





