শিলিগুড়ি, ১৪ অক্টোবরঃ বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা যে পার্কের, সেখানেই পরপর প্রাণহানি। বেঙ্গল সাফারি পার্কে গত তিন মাসে মৃত্যু হয়েছে সাতটি বন্যপ্রাণীর। মৃতদের তালিকায় রয়েছে স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণ, পুরুষ সিংহ, চশমা বাঁদর, হিমালয়ান শকুনের মতো বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। রয়েছে অত্যন্ত বিরল স্যাঙ্গাই হরিণও। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় পার্কের চিকিৎসা ব্যবস্থা, নজরদারি ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশপ্রেমীরা। যদিও মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি পার্ক কর্তৃপক্ষ।
পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে ৬ জুলাই জন্ম হয়েছিল একটি কৃষ্ণসার হরিণের। কিন্তু পরের কয়েক সপ্তাহেই একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা সামনে আসে। গত ১৬ জুলাই মৃত্যু হয় একটি স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণের। দু’দিন পর, ১৮ জুলাই একই দিনে মারা যায় একটি পুরুষ সিংহ এবং একটি স্ত্রী চশমা বাঁদর। ২২ জুলাই মৃত্যু হয় একটি পুরুষ ওয়াইল্ড ডগের। ২৭ জুলাই প্রাণ হারায় একটি পুরুষ আর্গাস ফিজ্যান্ট পাখি।
আগস্টেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। ৬ আগস্ট মৃত্যু হয় একটি পুরুষ হিমালয়ান শকুনের। এর পর ১৫ আগস্ট মারা যায় অত্যন্ত বিরল প্রজাতির স্ত্রী স্যাঙ্গাই হরিণ। পরপর এই মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষত, সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীদের মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে, পার্কে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন প্রথম ছ’মাসেই বেঙ্গল সাফারি পার্কে ২০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর। তার পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও সাতটি প্রাণীর মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও প্রতিটি মৃত্যুর কারণ এক নয়, তাই চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, ময়নাতদন্তের ফল এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
সলিটারি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরি এই ধারাবাহিক মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, পার্কের স্বাস্থ্য পরিষেবা, নজরদারি ও পরিচালন ব্যবস্থার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন। দ্রুত তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষের তরফে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পার্কের অধিকর্তা বিজয় কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। ফলে একের পর এক প্রাণহানির পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। এখন নজর, মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে।





