উত্তরপ্রদেশ, ৩১ জুলাইঃ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এনকাউন্টারকে ঘিরে বহু বিতর্ক হয়েছে। কোথাও তা অপরাধ দমনের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা পেয়েছে, কোথাও আবার উঠেছে ভুয়ো এনকাউন্টারের অভিযোগ। তবে বিহারে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ঘটল ব্যতিক্রম। এক এনকাউন্টারে সমাজকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর এসটিএফের এক জওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
ঘটনাটি গত ১৭ জুন ভোজপুর জেলার শাহপুর থানার বিলাউটি গ্রামের। ওই দিন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ভরত ভূষণ তিওয়ারির। স্থানীয়ভাবে তিনি সমাজকর্মী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হতেন তিনি। বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করতেন সামাজিক মাধ্যমে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর শরীরে চারটি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পর ভরতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের হওয়া এফআইআরে জগদীশপুরের তৎকালীন ডিএসপি রাজেশ শর্মা, শাহপুর থানার তৎকালীন ওসি রাজেশ মালাকার এবং এসটিএফের জওয়ান অক্ষয় কুমারের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে ভরতকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর। এনকাউন্টারের কিছুক্ষণ আগে ভরত ভূষণ তিওয়ারি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র তিনি পুলিশের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন। এই দৃশ্য সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছিলেন। এরপরও তাঁকে গুলি করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিহারজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তিওয়ারির সমর্থক এবং সমাজের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। চাপের মুখে রাজ্য সরকার ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেয়। প্রথমে চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। তদন্তে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এবার এসটিএফের জওয়ান অক্ষয় কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আরও চার পুলিশকর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতে এনকাউন্টার-সংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপ খুব কমই দেখা যায়। তাই বিহারের এই ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুর তদন্ত নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে জাতীয় স্তরে আলোচনা শুরু করেছে।





