মুর্শিদাবাদ, ২৫ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই বিস্ফোরক দাবি করলেন সাগরদিঘির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি হেরে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, জঙ্গিপুর মহকুমার আরও কয়েকটি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের পরাজয়ের আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে। জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে তৈরি হওয়া ভোট গণনা কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল বলে খবর পান বায়রন বিশ্বাস। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছে যান এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, রাত ১১টা ১৭ মিনিটে প্রায় ১৭ মিনিট এবং রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে প্রায় ২০ মিনিট সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ ছিল, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। বায়রন বিশ্বাস দাবি করেন, তাঁকে স্ট্রং রুমে ঢুকে ইভিএম পরীক্ষা করতে দিতে হবে। যদিও নিরাপত্তা বিধি মেনে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। উত্তেজনার মাঝে তিনি পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং পরে অনুরোধের সুরেও গেট খোলার আবেদন জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষমেশ হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সেন্ট্রাল বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে পারব না। দিদিও পারেননি, অভিষেকদাও পারেননি।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন, সিসিটিভি বন্ধ থাকা ‘টেকনিক্যাল ফল্ট’ নয়, বরং ‘দিল্লির নির্দেশে’ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বায়রন বিশ্বাস দাবি করেন, শুধু সাগরদিঘি নয়, জঙ্গিপুরে জাকির হোসেন, ফরাক্কায় আমিরুল ইসলাম এবং সামশেরগঞ্জে নুর আলমও পরাজিত হবেন। তবে অন্য কেন্দ্রগুলির বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।
সব মিলিয়ে, ভোট গণনার আগেই এই ধরনের মন্তব্য ও অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





