হাওড়া, ২৪ এপ্রিলঃ প্রথম দফার ভোটের পর রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে হাওড়া মধ্য বিধানসভার হাওড়া ময়দান মেট্রো চ্যানেলে জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। এদিন তাঁর মোট পাঁচটি কর্মসূচির সূচনা হয় এই সভা দিয়ে, এরপর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা ও জনসভা রয়েছে।
সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র গঙ্গাবিহার প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, “দিল্লির যমুনা সামলাতে পারেন না, আর বাংলায় এসে গঙ্গায় নৌকাবিহার করছেন! একবার যমুনায় ডুব দিয়ে আসুন।” তাঁর অভিযোগ, এটি আসলে ভোটের রাজনীতি এবং ‘ফটোশ্যুট’।
এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপির চাপে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। “প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছিল। আমরা সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম ফেরাতে পেরেছি, বাকিদেরও ফেরাব,” বলেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মমতা আরও বলেন, “৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, এটা মানুষের প্রতিবাদ। অত্যাচারের জবাব দিচ্ছে মানুষ।” পাশাপাশি ভোট চলাকালীন হিংসা ও মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যেরও জবাব দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আমাদের গর্ব। দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যাদবপুর রয়েছে, একে অপমান করা উচিত নয়।”
ধর্ম ও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেও বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “যারা দিল্লিতে মন্দির ভাঙে, তাদের কাছ থেকে ধর্ম শিখব না। যারা মহিলাদের ওপর অত্যাচার করে, তাদেরই টিকিট দেওয়া হচ্ছে।”
শেষে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের শক্তি বাংলার মানুষ এবং বাইরের লোক এনে মিছিল করতে হয় না। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।





