নয়াদিল্লি, ২২ এপ্রিলঃ সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জোরালো আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত। তবে এই অভিযোগের আইনি ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যপক্ষ।
মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী মনু সিংভি আদালতে দাবি করেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে আবেদন জানানোর কোনও এক্তিয়ার ইডির নেই। তাঁর বক্তব্য, এই ধারা মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি, কোনও তদন্তকারী সংস্থার জন্য নয়।
একই সুরে কথা বলেন রাজ্যের আরেক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র বা সরকারি সংস্থার জন্য নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনে এনে বলেন, মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই ধারার উৎপত্তি।
রাজ্যপক্ষের দাবি, ইডি যে ভাবে এই ধারার ব্যবহার করছে, তা সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। ফলে এই মামলায় ইডির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মত তাঁদের। অন্যদিকে, ইডির তরফে এই বিষয়ে পাল্টা সওয়াল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠে এসেছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতের একাধিক মামলার ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





