মনিরুল হক, কোচবিহারঃ কোচবিহারের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মাথাভাঙার ঘোকসাডাঙা ছোটশিমূলগুড়ি গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি জেলায় চলতে থাকা অশান্তি নিয়ে সরব হন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বাবলু বর্মণের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে কোচবিহারের বর্তমান পরিস্থিতি, ভোটের আবহ এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক অবস্থান।
সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “ভোট এলেই কোচবিহারে অশান্তি কেন হবে ?” সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, নির্বাচন চলাকালীন অনেক প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকায় সরাসরি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার হাতে এখন আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেই, কিন্তু আগামী দিনে থাকবে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে বর্তমান সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে ভোট পরবর্তী সময়ের জন্য কড়া প্রশাসনিক বার্তাও দেন।
এদিনের জনসভায় মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সেই ভিড়কে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ ভোটের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের ভোটাধিকার সবচেয়ে বড় শক্তি, তাই কোনওভাবেই অশান্তি বা ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সেই অধিকার খর্ব করা উচিত নয়।
বিরোধী দলগুলির নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দেন, ভোটের পর যদি কোথাও অশান্তি সৃষ্টি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যাঁরা অশান্তি তৈরি করবেন, তাঁদের রেয়াত করা হবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও কোচবিহারের মানুষের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলার শান্তি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সভা শেষে দলীয় প্রার্থী বাবলু বর্মণের সমর্থনে ভোটের আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মাথাভাঙার বাসীর কাছে অনুরোধ করেন, উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে তৃণমূল প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।
সামগ্রিকভাবে, মাথাভাঙার এই জনসভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী -শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।





