কলকাতা, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আইপ্যাকের একাধিক শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। আইপ্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ধেল-কে গ্রেপ্তারের পর এবার ইডির নজরে সংস্থার আরেক কর্তা প্রতীক জৈন-এর পরিবার। আগামী ১৫ তারিখ দিল্লিতে হাজিরা দেওয়ার জন্য প্রতীকের স্ত্রী ও ভাইকে তলব করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, কয়লা পাচার মামলায় সোমবার রাতে দিল্লি থেকে ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করে ইডি। পরে আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানো হয়। এর আগে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রতীক জৈনের পরিবারের সদস্যদের তলব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগেও প্রতীক জৈন ও ঋষি রাজ সিংকে ইডি তলব করলেও তাঁরা নির্বাচন পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের উপর আঘাত এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই তাঁদের নিশানা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-ও আগেই এই ধরনের অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল ও তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন-ও ইডিকে কটাক্ষ করে ‘অত্যন্ত মরিয়া’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, সংস্থাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই ধারাবাহিক পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। এখন দেখার, এই বিতর্ক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে।





