পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় দিনের প্রথম জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি, সাংসদ থেকেছি, কেন্দ্রে মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু বিজেপির মতো ‘নোংরা খেলা’ আর কাউকে খেলতে দেখিনি।”
সভা মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “বাংলাকে কোনওভাবেই দখল করা যাবে না। যতই চেষ্টা করা হোক, বাংলার মানুষ তা হতে দেবে না।” তাঁর কথায়, বিজেপি যদি ‘নোংরা খেলা’ খেলতে চায়, তবে তৃণমূল তার জবাব আরও জোরালোভাবে দেবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুরন্ত খেলা খেলেই আপনাদের পগার পার করব।”
এই জনসভা থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, দলের বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শাসক দলের দাবি, ভোটের আগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুতেও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্ট-এ যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। মমতার বক্তব্য, “আমি আপনাদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, রাস্তাতেও লড়াই করছি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নাম তুলেই ছাড়ব, আজ না হোক কাল।”
এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টিকেও সমর্থন করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ইস্যুতে বহু অসঙ্গতি রয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যানাথ-কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “নয়ডা জ্বলছে, আর এখানে এসে বলছেন বাংলায় বুলডোজার চলবে!” তাঁর মতে, বাংলার সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে এভাবে ভাঙা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে আরও তপ্ত করে তুলছে। এখন দেখার, এই প্রচারের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে।





