পানিহাটি, ৯ এপ্রিলঃ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি। রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে আর জি করের নিগৃহীতা চিকিৎসকের মা। অন্যদিকে, তৃণমূলও এই কেন্দ্রে নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে তীর্থঙ্কর ঘোষ-কে। তাঁর সমর্থনে বৃহস্পতিবার উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই দলীয় কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তৃণমূল করতে হলে বেআইনি দখলদারি বা সবুজ ধ্বংস কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “মাঠ দখল করা চলবে না, বেআইনি নির্মাণ চলবে না। সবুজ রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।”
প্রসঙ্গত, বছর খানেক আগে সোদপুরের অমরাবতী এলাকার একটি বড় মাঠ দখল করে নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের মতে, ওই মাঠ এলাকাবাসীর জন্য ‘ফুসফুস’-এর মতো কাজ করে। অভিযোগ ছিল, পানিহাটি পুরসভার মদতেই সেখানে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছতেই তিনি দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পুরসভার চেয়ারম্যানও বদল করা হয়।
এই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সেই বিতর্ক এখনও তাজা। তাই ভোটের আগে এই ইস্যু যাতে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে এসে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি কলকাতায় থাকি বলে কোথায় কী হচ্ছে জানি না, এটা ভাববেন না। পানিহাটি থেকে মালদহ সব জায়গার খবর আমি রাখি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
এদিনের সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের সমর্থনে ভোটের আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে, পানিহাটির নির্বাচনী লড়াইয়ে অমরাবতী মাঠ ইস্যু আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে দলীয় নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করলেন, তেমনই পরিবেশ রক্ষার বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন। এখন দেখার, এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ফলাফলে।





