মনিরুল হক, কোচবিহারঃ কোচবিহারের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজবংশী ভোট পেতে ভারতীয় জনতা পার্টি একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিন তিনি উত্তরবঙ্গের একাধিক অপূর্ণ প্রকল্পের তালিকা তুলে ধরেন। অভিষেকের দাবি, নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গঠন বা চিলা রায়ের নামে প্যারা-মিলিটারি সেন্টার তৈরির প্রতিশ্রুতি এখনও অধরাই রয়ে গেছে। একইভাবে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিতে ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকার সংগ্রহশালাও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির এবং জল্পেশ মন্দির-কে কেন্দ্র করে পর্যটন হাব তৈরির প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন অভিষেক। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে AIIMS, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোচবিহার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ঘোষণাও বাস্তবে রূপ পায়নি বলেও তাঁর অভিযোগ।
রাজবংশী ভাষা প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি। অভিষেক বলেন, রাজবংশী ভাষার প্রকৃত সম্মান দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। তাঁর বক্তব্য, “২০১৮ সালে কামতাপুরি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ভরা সভায় সেই চিঠির কপি দেখিয়ে অভিষেক দাবি করেন, এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিন কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, নোটবন্দি, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি কিংবা লকডাউন সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। “বিজেপি শুধু মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে,” বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও ভাষার ইস্যুতে কেন্দ্রকে চাপে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে তৃণমূল, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।





