পানিহাটি, ৫ এপ্রিলঃ তৃণমূলের অভিযোগের জেরে পানিহাটির সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিজেপির প্রচার সামগ্রী গোছানোর অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের অভিযোগে শোকজ নোটিশও পাঠানো হয়েছে ওই আধিকারিককে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
সেখানে দেখা যায়, একটি ঘরের ভিতরে কয়েকজন ব্যক্তি বিজেপির পতাকা বাঁধা ও প্রচার সামগ্রী গোছানোর কাজে ব্যস্ত। মেঝেতে বসে পোস্টার ও লিফলেট সাজানো হচ্ছে এবং চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে দলীয় পতাকা। সেই ভিডিওতেই কালো গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যিনি পরবর্তীতে পানিহাটির সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তী বলে চিহ্নিত হন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়ায় ভিডিওটি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা কোনও আধিকারিক কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রচারে যুক্ত থাকতে পারেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি গুরুতর এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
পরে জানা যায়, অতনু চক্রবর্তী পেশায় একজন শিক্ষক এবং বারাসতের চৌধুরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তাঁর বাড়ি আগরপাড়া নর্থ স্টেশন রোড এলাকায়। ঘটনার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয় এবং কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন। সাসপেনশন নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই আধিকারিকের কর্মকাণ্ড কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং শোকজ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।





