কলকাতা, ২৮ মার্চঃ দফায় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ ভোটের মুখে কার্যত চাপে পড়েছে বিজেপি। একদিকে এখনও একাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি, অন্যদিকে ঘোষিত প্রার্থীদের ঘিরেই দানা বাঁধছে অসন্তোষ। ফলে নির্বাচনের আগে সংগঠন সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহ কলকাতা ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। মূলত চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নিয়ে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বহিরাগত প্রার্থী না দিয়ে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিজেপির তৃতীয় প্রার্থী তালিকায় চন্দননগরের প্রার্থী হিসেবে দ্বীপাঞ্জন গুহ-র নাম ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে পরাজিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ইন্দ্রানীল সেন-এর কাছে। সেই পুরনো প্রার্থীকে ফের টিকিট দেওয়ায় দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই চন্দননগরে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি কর্মীদের একাংশ রাস্তায় নেমে দলীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখান, এমনকি আগুন জ্বালিয়ে ‘দীপাঞ্জন গুহ দূর হঠো’ স্লোগান তুলতেও দেখা যায়। গত বুধবার পুলিশি হস্তক্ষেপে চন্দননগরের জিটি রোডে বিক্ষোভ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শনিবার সেই অসন্তোষের আঁচ এসে পড়ে সল্টলেকের রাজ্য দফতরে।
শুধু চন্দননগর নয়, রাজ্যের একাধিক জায়গায় একই চিত্র সামনে আসছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে দক্ষিণবঙ্গের উদয়নরায়ণপুর, বলাগড় থেকে বেলেঘাটা প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। কোথাও বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে আপত্তি, কোথাও আবার স্থানীয় নেতাদের উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধারাবাহিক বিক্ষোভ বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটের আগে যেখানে জোরকদমে প্রচার চালানোর কথা, সেখানে দলের একাংশকে এখন ঘরোয়া কোন্দল সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এতে ভোটের লড়াইয়ে প্রভাব পড়তে পারে বলেই মত তাঁদের।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে এবং খুব শীঘ্রই বাকি আসনগুলির প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হবে। তবে এখনও প্রায় ১৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি থাকায় এবং তার আগেই যেভাবে ‘বিদ্রোহ’ মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





