কলকাতা, ২৮ মার্চঃ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে চাপে পড়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই তিন দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির, তবে এখনও ১৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর যখন অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রায় সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে, তখন বিজেপির এই দেরি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, প্রায় চল্লিশটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিজেদের হাতে রেখে দিয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই আসনগুলিতে চমকপ্রদ মুখ তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল। সেই লক্ষ্যেই রাজনীতির বাইরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তালিকায় ছিলেন নামী সংগীতশিল্পী, প্রাক্তন আমলা, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বরা।
জানা গিয়েছে, বিজেপির তরফে সরাসরি ফোন করে তাঁদের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। ফলে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে উপযুক্ত প্রার্থী বেছে নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে দলীয় নেতৃত্ব। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকাগুলিতে শক্তিশালী মুখ খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়তে নারাজ গেরুয়া শিবির। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, শেষ দফার প্রার্থী তালিকায় কিছু চমক রাখার চেষ্টা চলছে। নতুন মুখ তুলে ধরে ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা। বিশেষ করে শহুরে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবং নির্দিষ্ট কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতে নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণায় এই দেরি দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রার্থী ঘোষণার পর প্রচার কৌশল তৈরি, বুথস্তরে সংগঠন গড়ে তোলা এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর জন্য সময় প্রয়োজন হয়। সেই সময় কমে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিজেপি পিছিয়ে পড়তে পারে বলেই মত তাঁদের।
যদিও বিজেপির তরফে এই উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, খুব শীঘ্রই বাকি ১৯টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ভোটের আগে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হবে। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তোলার কাজও চলছে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিজেপির এই চাপে পড়া পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখন নজর শেষ দফার তালিকার দিকে সেখানে আদৌ কোনও বড় চমক থাকে কি না, সেটাই দেখার।





