কোচবিহার, ২৫ মার্চ:দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। শিলিগুড়ির বাসিন্দা রথীন্দ্রনাথ বসুকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দল। তবে প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে “বহিরাগত প্রার্থী” ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি,কোচবিহার দক্ষিণের মানুষ একজন স্থানীয় প্রতিনিধিকেই চান, যিনি এলাকার সমস্যা ও চাহিদার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দলের সাধারণ সম্পাদক রাকেশ চৌধুরী বলেন, রথীন্দ্রনাথ বসু কোচবিহারের হলেও দীর্ঘদিন শিলিগুড়িতে বসবাস করছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রার্থী করা সাধারণ মানুষ সহজভাবে নেবেন না বলেই মত তাঁর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগের বিজেপি বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে পাঁচ বছরে মানুষের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখেননি, ফলে বিজেপির উপর মানুষের আস্থা অনেকটাই কমেছে।
অন্যদিকে,বিজেপির এই প্রার্থী ঘোষণার দেরি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের মতে, কোচবিহার জেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে এত দেরি হওয়া সংগঠনের দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে কোচবিহার দক্ষিণ, নাটাবাড়ি ও সিতাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই দেরি আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক অনেক আগেই নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন। শহর থেকে গ্রাম প্রতিটি এলাকায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলছেন তিনি। স্থানীয় সমস্যা,উন্নয়ন ও জনসংযোগকে হাতিয়ার করে তাঁর প্রচার ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে দাবি তৃণমূলের।
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী,স্বাস্থ্যসাথী, যুবশ্রী, কন্যাশ্রী, রাস্তাঘাট, পানীয় জল, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয় গুলিকেও সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাই এবারের নির্বাচনে তাদের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে,কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। একদিকে বিজেপির নতুন মুখ, অন্যদিকে তৃণমূলের আগাম প্রচার ও সংগঠনের জোর এই দুইয়ের সংঘর্ষে শেষ পর্যন্ত জনমত কোন দিকে যায়,এখন সেটাই দেখার।





