মালদা, ১০ মার্চঃ মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকে বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক আধার কার্ড, এটিএম কার্ড, ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসের পাশবই সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ডাক কর্মীর গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হবিবপুরের বিনোদপুর ডাকঘরের সঙ্গে যুক্ত এক ডাক কর্মীর অধীনে কাজ করা এক যুবকের বাড়ি থেকে এই বিপুল নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ, বিনোদপুর ডাকঘরের ডাক কর্মী হরেশ রায় নিজে প্রাপকদের হাতে নথি বিলি না করে অস্থায়ীভাবে গ্রামের যুবক সুশীল টুডুকে কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে এই কাজে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু সুশীল টুডুর বাড়িতেই জমা পড়ে থাকে বহু আধার কার্ড, এটিএম কার্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি।
সম্প্রতি সুশীল টুডুর বাড়ি থেকে ওই নথিপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া সব নথি বিনোদপুর ডাকঘর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। ফলে নথি বিলি না হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপ।
সুশীল টুডুর দাবি, ওই বিপুল সংখ্যক নথি ডাক কর্মী হরেশ রায়ই তাঁর কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে সেগুলি প্রাপকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অন্যদিকে অভিযুক্ত ডাক কর্মী হরেশ রায় অস্থায়ী কর্মী রাখার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, সুশীল টুডু যে নথিগুলি বিলি করেননি সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া নথিপত্র পুলিশ বিনোদপুর ডাকঘরে ফিরিয়ে দিলেও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ডাকঘরের কর্মীরা। উল্টে সংবাদমাধ্যম ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ভেতর থেকে ডাকঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।





