কলকাতা, ৮ মার্চঃ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র শিলিগুড়ি সফর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব। বিষয়টি এখন কার্যত রাজনৈতিক তরজায় রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা অভিযোগ তুলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিত্বকে যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার।
এই অভিযোগের পালটা জবাব দিতে রবিবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি একটি পুরনো ছবি সামনে এনে বিজেপির অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী-র পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আর চেয়ারে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এই ছবি দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “ছবিটা ভালো করে দেখুন। সম্মাননীয় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর প্রধানমন্ত্রী বসে রয়েছেন। তাহলে বলুন তো, কে কাকে অসম্মান করছে?” তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কখনও কোনও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিত্বকে অসম্মান করে না। বরং রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে অন্যভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এদিন ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া এবং রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা -ও ওই ছবিটি উপস্থিত জনতার সামনে তুলে ধরেন। একই সময়ে মথুরাপুরের এক জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি-ও একই ছবি দেখিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তবে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের অন্য কোনও মন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর, যা ক্রমশ আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।





