খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ মার্চঃ সুদীর্ঘ সময় ধরে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে শনিবার প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আর তালিকা প্রকাশের পর থেকেই উঠতে শুরু করেছে একের পর এক অভিযোগ। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, এবার আন্দোলনের ময়দানে নামছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
অভিষেক জানান, আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে দুপুরে অবস্থান-ধর্নায় বসবেন তৃণমূল নেত্রী। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করবেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া এবং বহু নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখার অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর ইস্যুতে ধাপে ধাপে প্রতিবাদে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও মিছিল, কখনও জেলা সফর করে সভা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি সরব হয়েছেন। এমনকি আম বাঙালির ভোটাধিকার রক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও সওয়াল করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। এবার সেই আন্দোলন আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি ধর্নার পথে হাঁটছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মেট্রো চ্যানেল বেছে নেওয়ার মধ্যেও রয়েছে প্রতীকী বার্তা। ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় এই মেট্রো চ্যানেলেই টানা অনশন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলনই পরবর্তীতে বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের ভিত্তি তৈরি করেছিল। ফলে আবার সেই জায়গাতেই ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক গাফিলতি হয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন অবশ্য নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ভোটার তালিকা ইস্যুতে এই ধর্না যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করছে, তা স্পষ্ট। ৬ মার্চের কর্মসূচির দিকে এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





