মালদা, ১ মার্চঃ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর উত্তপ্ত মালদহ। জেলার মোট ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৮ হাজার ২৮২ জনের নাম। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
মালদা জেলার ইংলিশ বাজার বিধানসভার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী যদুপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ভোটার প্রায় ১৪ হাজার। তার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন ‘বিচারাধীন’ এবং প্রায় ১৫০ জনের নাম বাতিল হয়েছে। ফলে এলাকায় চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সীমা পাহাড়ি জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়েছিলেন। সেই মানসিক চাপে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এখন তালিকায় নিজের নাম না পেয়ে দিশেহারা তিনি। একই অভিযোগ সীমা সিং-এরও। বহু বছর ধরে ভোট দিলেও এবার তাঁর নাম নেই বলে দাবি। বাতিল হওয়া এক ভোটারের আত্মীয়া বাসন্তী মণ্ডলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে বিচারাধীন ভোটার সেলিম মালেক, বাবুল হোসেন ও এমডি শাহা আলমের দাবি, সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁদের নাম বিচারাধীন রাখা হয়েছে। সামনে ঈদ উৎসব, তার মধ্যেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। অভিযোগ, তালিকা প্রকাশের পর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বিএলওদের।
যদুপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান এমডি সেনাউল বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাস ও জেলা তৃণমূল মুখপাত্র আশীষ কুণ্ডু বিষয়টি নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন। ভোটার তালিকা নিয়ে এই জটিলতায় মালদহ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।





