খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন(এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন চাপ ও আতঙ্কের জেরে রাজ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সূত্রের খবর, এই প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রাণ হারানো সরকারি আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ৬১টি পরিবারের একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ। এই প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েন বিএলও, ইআরও ও ডিআরও-রা। অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক উদ্বেগের জেরে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, কেউ আত্মঘাতী হন।
রাজ্যের শাসকদল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বারবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত কাজ ও অযৌক্তিক সময়সীমার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য কমিশনের তাড়াহুড়ো নীতি দায়ী। প্রথম দিন থেকেই মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
শুধু সরকারি কর্মী নন, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নথিপত্রের ঘাটতি, শুনানির নোটিস, নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এসব কারণে বহু মানুষ মানসিক চাপে ভুগেছেন বলে অভিযোগ। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা একশোরও বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে বহু পরিবার কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন দপ্তরে নিয়োগ, কবে থেকে চাকরিতে যোগদান এই সংক্রান্ত বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর।





