মালদা, ২৩ ফেব্রুয়ারিঃ মালদার মানিকচক থানার গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অশিন টোলা গ্রামের বাসিন্দা উমর ফারুককে জঙ্গি সন্দেহে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণি পাশ এই যুবক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কলকাতায় শ্রমিকের কাজ করতেন বলে পরিবারের দাবি। ঈদের আগে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। গত রবিবার স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
উমরের বাবা আক্তার হোসেন একসময় ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। উমর পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর ভাই হাসান আলী টোটো চালক। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র দুই মাস আগে বাড়ি এসেছিলেন উমর। মাসে কখনও পাঁচ হাজার, কখনও দশ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাতেন সংসারের খরচের জন্য।
ধৃতের স্ত্রী সেমি খাতুনের দাবি, “আমার স্বামী নির্দোষ। ওকে ফাঁসানো হয়েছে।” কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একই দাবি করেছেন মা রোহিমা বিবিও। তাঁর কথায়, “আমার ছেলে কোনও খারাপ কাজ করতে পারে না। ও খুব শান্ত স্বভাবের।” গ্রামবাসী নুমান শেখ জানান, উমরকে কখনও সন্দেহজনক কিছু করতে দেখা যায়নি। হঠাৎ গ্রেপ্তারের খবরে সকলে স্তম্ভিত।
গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মনিরুল শেখ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রশাসন নিশ্চয়ই তদন্ত করছে। তবে গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর পরিবার ফোন মারফত জানতে পারে। এরপর থেকেই বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গোটা অশিন টোলা গ্রামে চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাকে ঘিরে মালদা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





