কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারিঃ একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই ভাষা, আত্মপরিচয় এবং অস্মিতার লড়াই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও ভাষা শহিদ দিবসে দেশপ্রিয় পার্কের সরকারি অনুষ্ঠানে সেই আবেগঘন আবহেই বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বার্তাও। নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন,“গায়ের জোরে বাংলা দখল করা যায় না।”
অনুষ্ঠানে গান ও কবিতার আবহে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন প্রয়াত গণসংগীত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়-কে। তাঁর শেষ সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে মমতা বলেন, প্রতুলদা নীরবে চলে যেতে চেয়েছিলেন। শেষ দেখা করতে গিয়ে তিনি ডাক দিলে শিল্পী চোখ খুলে তাকান যা তাঁর কথায় ছিল এক ‘মিরাকল’। পাশাপাশি এদিন রাজ্যের বিশিষ্টজনদের হাতে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান তুলে দেওয়া হয়।
বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“বাংলায় কথা বললেই কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। আমাদের ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ?” দিল্লির সাহিত্য আকাদেমিকেও বিঁধে তাঁর মন্তব্য, বাংলাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, “বাংলায় কি কেউ কিছু লেখে না?”
কেন্দ্রের আধিপত্যকামী রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, “আগে বাংলাকে ভালোবাসুন, তারপর বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখুন। গায়ের জোরে সব দখল করা গেলেও মানুষের মন জয় করা যায় না।” বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করবেন? শাড়ি পরাও বন্ধ করে দেবেন?”
বক্তব্যের শেষে বাংলার অস্মিতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে তিনি আহ্বান জানান ঐক্যের। “জোট বাঁধুন, তৈরি হন। জোর করে বাংলাকে দখল করা যাবে না,” এই বার্তাতেই শেষ হয় তাঁর ভাষণ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাষা দিবসের মঞ্চ যে রাজনৈতিক বার্তার বাহক হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।





