দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২১ ফেব্রুয়ারিঃ বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন তিনি। প্রাক্তন বাম যুবনেতার এই দলবদলকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা চলছিল।
দলীয় পতাকা গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক স্পষ্ট জানান, প্রতীক কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে দলে আসেননি। তাঁর কথায়, “প্রতীক নিজেই এসে বলেছে, সে কোনও টিকিট চায় না। দল চাইলে টিকিট দিলেও নেবে না। সে শুধু দলের হয়ে কাজ করতে চায়।” বিরোধীদের তরফে ওঠা ‘ডিল’ তত্ত্বকে কড়া ভাষায় খণ্ডন করে তিনি বলেন, “যারা স্নো পাউডার মেখে বসে থাকে, জ্বালাটা তাদেরই। রাজনীতিতে চাওয়া-পাওয়া নেই এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়।”
বামপন্থার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক আরও বলেন, “আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সার্টিফিকেট পেলেই কেউ বামপন্থী হয় না। মানুষের জন্য কাজ করাই বড় কথা।” উদাহরণ হিসেবে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কানহাইয়া কুমারের নামও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে পিছপা হননি প্রতীক উর রহমানও। তাঁর বক্তব্য, “হ্যাঁ, ডিল হয়েছে। সেই ডিলটা হলো বিজেপি যাতে বাংলায় কোনওভাবে শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।” তিনি স্পষ্ট করেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন প্রতীক। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কারের সুযোগ থাকলেও, সঙ্গে সঙ্গে সেই পথে হাঁটেনি আলিমুদ্দিন। বরং দলের একাংশ তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা চালায়। প্রবীণ নেতা বিমান বসু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে মানভঞ্জনের চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা যায়। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদেরও সমাজমাধ্যমে প্রতীকের পক্ষে সওয়াল করতে দেখা যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত ‘ধরে রাখার’ নীতি সফল হল না। শনিবার আমতলার দলীয় কার্যালয়ে প্রতীকের যোগদান সেই প্রচেষ্টায় ইতি টানল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই দলবদল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাম শিবিরে একাংশের মতে, যুব নেতৃত্বের এই রক্তক্ষরণ সংগঠনের পক্ষে অস্বস্তিকর। অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে এটিকে কৌশলগত সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভোটের আগে প্রতীক উর রহমানের এই পদক্ষেপ যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।





