কলকাতা, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হলেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। হাতে সময় কম থাকায় শাসক-বিরোধী সব দলই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে কালীঘাটে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার কালীঘাটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। মূল আলোচনার বিষয় ছিল সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করতে চান বলে খবর। এই নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন-ও। ভোটের আগে কৌশল নির্ধারণ ও প্রার্থী বাছাই নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, এবার কি পুরনোদেরই ভরসা করবে দল, নাকি আসবে একঝাঁক নতুন মুখ? দলীয় অন্দরমহলের ইঙ্গিত, বেশ কিছু নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। তালিকা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভোট ঘোষণা হলেই তা প্রকাশ করা হতে পারে। পাঁচ বছর আগে যারা টিকিট পেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্মক্ষমতা, জনপ্রিয়তা ও সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ এই তিন মানদণ্ডেই মূল্যায়ন চলছে বলে খবর।
এদিকে তৃণমূল ভবনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বায়োডাটা জমা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ বক্স রাখা হয়েছে। দলের যে কোনও সদস্য নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার আবেদন করতে পারছেন। যদিও তালিকা প্রায় প্রস্তুত, তবু এই উদ্যোগ কেন তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে আইপ্যাক একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নয়াদিল্লি সূত্রে জোর জল্পনা, ২ মার্চ ভোটের দিন ঘোষণা হতে পারে। চলতি বছরে তিন দফায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না দক্ষিণবঙ্গে দু’দফা এবং উত্তরবঙ্গে এক দফায় ভোট হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী তালিকা প্রকাশই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় অপেক্ষা। তালিকা সামনে এলেই স্পষ্ট হবে, কারা নামছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে।





