খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ সিপিএম থেকে দূরত্ব বাড়ার পর আরও আক্রমণাত্মক সুরে সামনে এলেন প্রতীক উর রহমান। কলকাতায় এক বৈঠকে বসে তিনি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “ওই লোকটাকে দল থেকে বের না করলে সিপিএম বাঁচবে না। দলে এখন ভয়ের পরিবেশ। উনি গব্বর সিংয়ের মতো ‘ডর কা মাহল’ বানিয়ে রেখেছেন।” তাঁর অভিযোগ, দলে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গা নেই “ইয়েস স্যর বললে থাকবে, না বললে জায়গা নেই।”
৩৬ বছর বয়সি এই হোলটাইমার মাসে প্রায় সাত হাজার টাকা ভাতা পান বলে জানান। তবে গত দু’মাস অভিমানে সেই টাকা নেননি। তাঁর দাবি, সামান্য কিছু প্রশ্ন তোলার কারণেই তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু-র নাম টেনে তিনি বলেন, “রাজ্য সম্পাদককে চিঠি দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি।” একইসঙ্গে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
প্রতীকের কথায়, দলীয় ইমেজ ও মতাদর্শকে সামনে রেখে ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। “শুধু চেয়ার বাঁচাতে অসংখ্য প্রতীক উরকে বলি দেওয়া হচ্ছে,” এমনই অভিযোগ তাঁর। তবে রাজনীতি ছাড়ছেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। “আমি একটা বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে। সামনে খাদও থাকতে পারে, ফুল বিছানো রাস্তা-ও থাকতে পারে। কিন্তু রাজনীতির মাঠ ছাড়ব না,” বলেছেন প্রতীক।
এদিকে তাঁর মন্তব্যে তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা তুঙ্গে। কারণ, তিনি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের মানুষের পক্ষে সওয়াল করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যে কাজটা সর্বহারার দলের নেতাদের করা উচিত ছিল, তা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” এমনকি রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে পূর্বের সমালোচনাকে ভুল বলে স্বীকার করে তিনি জানান, “এটা ভিক্ষা নয়, আত্মসম্মান।”
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধেই একসময় লড়েছিলেন প্রতীক। তবে এখন তাঁর স্বীকারোক্তি, “ডায়মন্ড হারবার বদলেছে, কাজ হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, প্রতীক উর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি কোন পথে হাঁটবেন, তা স্পষ্ট না হলেও তাঁর অবস্থান যে বড় রাজনৈতিক মোড়ের দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।





