পূর্ব বর্ধমান, ১১ ফেব্রুয়ারি: মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞানের পরীক্ষা ঘিরে বুধবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল পূর্ব বর্ধমানে। পরীক্ষা কেন্দ্রে বন্দুক নিয়ে হাজির হয় এক পরীক্ষার্থী। স্কুলে ঢোকার আগে ব্যাগ তল্লাশির সময়ই ওই ‘বন্দুক’ দেখতে পান শিক্ষকরা। মুহূর্তের মধ্যেই স্কুলচত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দিলে জানা যায়, সেটি আসলে বন্দুকের আকৃতির একটি গ্যাস লাইটার।
জানা গিয়েছে, বর্ধমান উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতনের এক পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছিল রামকৃষ্ণ স্কুলে। অন্যান্য দিনের মতো এদিনও সে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে পৌঁছয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের ব্যাগ পরীক্ষা করা হচ্ছিল। সেই সময় ওই ছাত্রের ব্যাগ থেকে অ্যাডমিট কার্ড ও পরীক্ষার সামগ্রীর সঙ্গে একটি বন্দুকের মতো বস্তু দেখতে পান শিক্ষকরা। এতে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ছাত্র নাকি বন্দুকটি আঙুলের ফাঁকে ঘোরাতে ঘোরাতেই স্কুলে যাচ্ছিল। তার সঙ্গে আরও দুই বন্ধু ছিল বলেও জানা গেছে। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়। বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি পরীক্ষা করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সেটি আসল বন্দুক নয়, বরং বন্দুকের আকৃতির একটি গ্যাস লাইটার। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। যদিও প্রথমে ঘটনাটি ঘিরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
এত ঘটনার পরেও ওই পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে বসতে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হয় এবং অন্য পরীক্ষার্থীরাও নিরাপদে পরীক্ষা দেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক রবিকিরণ মুখোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি সামনে আসতেই পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “পুলিশ পরীক্ষা করে দেখে এটি বন্দুক নয়, গ্যাস লাইটারের মতো একটি জিনিস। সেটি দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে বিষয়টি পরিষ্কার হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
তিনি আরও জানান, আগের দিনগুলিতে ওই পরীক্ষার্থীর আচরণ স্বাভাবিক ছিল। পরীক্ষার শেষ দিনে সম্ভবত মজার ছলেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।





