খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারিঃ কোচবিহার জেলার দিনহাটায় এক বিএলওকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আক্রান্ত বিএলওকে। শনিবার ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও এই হামলার সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার কোনও যোগ আছে কি না,তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আক্রান্ত বিএলওর নাম মনোবর হোসেন। তিনি দিনহাটার গিতালদহ এলাকার ২৭৮ নম্বর বুথের বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে তাঁর বুথের প্রায় ২০০-র বেশি ভোটারের নামে হিয়ারিং নোটিস ইস্যু হয়েছে। সেই নোটিসগুলি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন মনোবর হোসেন। অভিযোগ, সেই কাজের মাঝেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোবর হোসেন জানান, “প্রায় ২০০ জনের হিয়ারিং নোটিস এসেছিল। বেশিরভাগই দিয়ে ফেলেছিলাম। মাত্র পাঁচটা বাকি ছিল। সেগুলি দিতে বেরিয়েছিলাম। তখনই দুই দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার উপর হামলা করে। আমাকে বিএলও হিসাবে পছন্দ না হওয়ার কারণেই এই মারধর।” তিনি আরও বলেন, বিএলওর কাজ করতে গিয়ে যদি প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তাহলে এই দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে যাবে। বিষয়টি তিনি জয়েন্ট বিডিওর সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ। দিনহাটার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাইক দ্রুত চালানোকে কেন্দ্র করে মনোবর হোসেনের সঙ্গে কয়েকজনের বচসা হয়। সেখান থেকেই মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আপাতত এই ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনী বা এসআইআর সংক্রান্ত কাজের কোনও যোগ পাওয়া যায়নি।” তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিএলওর উপর হামলার অভিযোগে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে বিতর্ক চলছে, তখন এই ঘটনার সঙ্গে সেই কাজের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।





