পুরুলিয়া, ২১ জানুয়ারিঃ আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে পুরুলিয়ার সভামঞ্চ থেকে অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে উন্নয়ন ও শান্তির খতিয়ান তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তিনি জেলার ৯টি বিধানসভা আসনে বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দেন।
সভায় বক্তৃতার শুরুতেই ২০১১ সালের আগের পুরুলিয়ার অশান্ত অতীতের কথা তুলে ধরেন অভিষেক। যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জঙ্গলমহলে একসময়কার মাওবাদী নাশকতার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সেই ভয়াল দিন পেরিয়ে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন ফিরেছে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “বাম আমলে পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টাতেও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই ছবি বদলেছে।”
এরপর মোদী-শাহকে নিশানা করে অভিষেক স্মরণ করান ১৯৯৮ সালে ঝালদায় তৃণমূলের জেতা প্রধানকে খুনের ঘটনা। প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কটি মাওবাদী নাশকতায় প্রাণ গিয়েছে? তাঁর মন্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আজও মাওবাদী-সিপিএমের বোমা-বন্দুকের নীচে মাথা নিচু করেই বাঁচতে হত।”
বাম থেকে বিজেপিতে রূপান্তর নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ট্রাফিক সিগন্যালের উদাহরণ টেনে বলেন, “লাল মানে থামো, গেরুয়া মানে ধীরে চলো, সবুজ মানে এগিয়ে চলো।” বাম আমলের ‘হার্মাদ’দেরই এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “নতুন বোতলে পুরনো মদ।”
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতকে নিশানা করে রেলের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরেন অভিষেক। চক্রধরপুর এক্সপ্রেস ও পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের নিয়মিত দেরির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “একটা ট্রেনই যদি সময়ে হাওড়া পৌঁছাতে না পারে, এত বছরে সাংসদ কী করলেন?” একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনের তিন মাসের মধ্যে এই ট্রেনগুলির লেট রান বন্ধ করা হবে।
সভা শেষে ভোটারদের উদ্দেশে বিজেপির টাকা নেওয়ার বিষয়েও কটাক্ষ করে বলেন, “পদ্ম থেকে টাকা নিন, ভোট দিন জোড়া ফুলে।” চতুর্থবার তৃণমূল সরকার গঠনে পুরুলিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে অভিষেক প্রতিশ্রুতি দেন, সব আসনে জিতলে ছ’মাসের মধ্যে জেলার দাবি পূরণের চেষ্টা করা হবে।





