খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিজেপি জানে বাংলায় ভোটে জেতা সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পিত ভাবে এসআইআর-এর নাম করে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এই চক্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারেরও ভূমিকা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেই জন্ম শংসাপত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই তা আর মানা হচ্ছে না। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার দাবি, মালদহে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক জেলায় আদিবাসীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
নাম কাটার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অমর্ত্য সেন, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, জয় গোস্বামী, দেব এঁদেরও নোটিস দিলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে ভাবুন।” এমনকি ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। যে সার্টিফিকেট দেশের সর্বত্র মান্য, তা শুধু বাংলাতেই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে এমনটাই দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সমালোচনায় মমতা বলেন, “তাহলে কি নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আর বিজেপি মিলেই ভোট দেবে? এভাবে চললে এক শতাংশ ভোটারও অবশিষ্ট থাকবে না।” তাঁর অভিযোগ, অন্য কোনও রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, শুধু বাংলাতেই সব কিছু আটকে দেওয়া হচ্ছে।
বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিককে ভিনরাজ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বেলডাঙার পর বিহারেও একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। ওরাই নাম কাটছে, আবার ওরাই মানুষ পিটিয়ে মারছে।” তিনি জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিটি ঘটনায় রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করছে এবং দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে হুমকির প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেল-ফাঁসির ভয় পায় না। আমি মানুষের কথা ভাবি। যতদিন বাঁচব, লড়াই করেই বাঁচব।” শেষে মানুষের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, যাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে তাঁরা ফর্ম জমা দিন এবং আদালতের উপর ভরসা রাখুন।





