শিলিগুড়ি, ৬ নভেম্বরঃ ভোটের দামামা বাজার আগেই শিলিগুড়ির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত! তৃণমূল ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পারিষদ সিক্তা দে বসু রায়। শুক্রবার শিলিগুড়ির বিধান ভবনে দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সুবীন ভৌমিকের উপস্থিতিতে কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। শুধু সিক্তা নন, এ দিন তাঁর সঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন আরও ৪০ জন যুবক। ভোটের আগে মেয়র পারিষদের দলবদলকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে।
শুক্রবার বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই যোগদানের কথা ঘোষণা করেন সুবীন ভৌমিক। তাঁর দাবি, কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই বহু মানুষ আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি মঞ্জুরও হয়েছে। তবে এ দিনের যোগদানই শেষ নয়। কালীপুজোর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, এমনকি মেয়র পারিষদ স্তরের আরও কয়েক জনের কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সুবীন বলেন, কংগ্রেসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আগামী দিনে আরও অনেকে হাত শিবিরে আসবেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষত, শাসকদলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
অন্য দিকে, দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিক্তা দে বসু রায় জানিয়েছেন, রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে থেকে কংগ্রেস যেভাবে কাজ করছে, তাতে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। মানুষের জন্য কাজ করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশীদার হতেই জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শিলিগুড়িতে কংগ্রেসের এই যোগদান কর্মসূচি রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। বিশেষ করে কালীপুজোর পর আরও যোগদানের যে ইঙ্গিত জেলা কংগ্রেস সভাপতি দিয়েছেন, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





