শিলিগুড়ি, ৬ নভেম্বরঃ জরিমানা করা হয়েছিল নিয়ম ভাঙার অভিযোগে। আর তার পরেই রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ! কর্মরত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উঠেছিল ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। তবে ঘটনার কয়েক দিন কাটতে না কাটতেই এবার পাল্টা বক্তব্য সামনে আনল শিলিগুড়ির মোটর ভেহিকেল দফতর। দফতরের দাবি, নিয়ম মেনেই সংশ্লিষ্ট ট্রাকটিকে জরিমানা করা হয়েছিল। উল্টে যে চালক ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেই রয়েছে ৪৩টি মামলা। ফলে ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন দফতরের আধিকারিকরা।
ঘটনার সূত্রপাত বাগডোগরা বিমানবন্দরের সামনে। মোটর ভেহিকেল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ৯টা নাগাদ পাঞ্জাব নম্বরের একটি ট্রাক পরীক্ষা করতে গিয়ে আধিকারিকদের নজরে আসে, তাতে বহন করা যন্ত্রাংশের বড় অংশ গাড়ির নির্ধারিত পরিসরের বাইরে বেরিয়ে রয়েছে। এ ভাবে পণ্য পরিবহণের ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয় ট্রাকটিকে। কিন্তু জরিমানার পর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মেডিকেল মোড়ে গিয়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে দেন চালক। রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। শুরু হয় চাপানউতোর।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দেন আরটিও মিল্টন চন্দ্র দাস। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে মোট ৪৩টি মামলা রয়েছে। শুধু শিলিগুড়ি নয়, এর আগেও উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। দফতরের দাবি, গত ৩ তারিখ উত্তরপ্রদেশে সকাল ৭টা নাগাদ এবং বিহারে রাত ৯টা নাগাদ রাস্তা আটকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিল।
আধিকারিকদের একাংশের আশঙ্কা, এর পিছনে কোনও সংগঠিত দুষ্কৃতীচক্রের যোগ থাকতে পারে। সরকারি রাজস্ব আদায় এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই কাজে বাধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দফতর।
সব মিলিয়ে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে এলেও অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এবার তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর।





