শিলিগুড়ি, ৬ নভেম্বরঃ ভোরের অন্ধকারে দু’টি পিকআপ ভ্যানে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ১১টি মহিষ। গন্তব্য অসম। কিন্তু শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়ায় পুলিশের তৎপরতায় মাঝপথেই থমকে গেল সেই যাত্রা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে দু’টি পিকআপ ভ্যান-সহ ১১টি মহিষ উদ্ধার করল মাটিগাড়া থানার পুলিশ। বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় আটক করা হয়েছে চারজনকে। শুক্রবার ভোরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহার থেকে অসমের উদ্দেশে মহিষ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পান তদন্তকারীরা। সেই খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোররাত থেকেই নজরদারি শুরু করে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ থাম্বা জোত এলাকায় দু’টি পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করেন পুলিশকর্মীরা। এরপর গাড়ি দু’টিতে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে ১১টি মহিষ। তার মধ্যে ছ’টি পূর্ণবয়স্ক এবং পাঁচটি ছোট মহিষ ছিল।
পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় মহিষগুলি পরিবহণের প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা। এরপর দু’টি পিকআপ ভ্যান-সহ চারজনকে আটক করে মাটিগাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সোনু কুমার (১৯), ধরমপুরের বাসিন্দা; শিবশঙ্কর রায় (৩২), মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা; রবীন্দ্র কুমার (১৯) এবং জামাল মণ্ডল (৩৫), অসমের বিলাসীপাড়ার বাসিন্দা। ধৃতদের শুক্রবার শিলিগুড়ি আদালতে তোলার কথা।
তবে এই ঘটনার পিছনে শুধু নথিপত্রের অভাব, নাকি এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত পাচারচক্রের যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিহার থেকে অসম পর্যন্ত এতগুলি মহিষ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবহণের উদ্দেশ্য কী ছিল, কোথায় সেগুলি সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রুটকে ব্যবহার করে কোনও বেআইনি কারবার চলছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়াই এখন পুলিশের লক্ষ্য।





