শিলিগুড়ি, ২৮ অক্টোবর: ভোটাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্রের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিল কংগ্রেস। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির নির্দেশে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবেই এই অভিযান। বুধবার দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির পর্যবেক্ষক তথা প্রাক্তন বিধায়ক সঞ্জয় কাপুর। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ভোটাধিকার খর্ব করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে।
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক ও সহ-সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার, শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত এবং দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি জীবন মজুমদার।
সঞ্জয় কাপুরের অভিযোগ, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে অস্বাভাবিক ভাবে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি, আবার বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ভোটার তালিকায় নামের বিকৃতির অভিযোগও তোলেন তিনি। সাধারণ মানুষকে নিজেদের এপিক নম্বর ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম যাচাই করার পরামর্শ দেন কংগ্রেসের এই নেতা। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন আবেদন সত্ত্বেও দেশের প্রায় ১৩ কোটি এবং পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই পরিসংখ্যান ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই অবশ্য সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সঞ্জয়। তাঁর অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিরোধীদের আপত্তিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে পাওয়া যায়নি।
কংগ্রেসের ঘোষণা, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের নিয়ে বড় সমাবেশ হবে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকে ব্লক, পঞ্চায়েত এবং বুথস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই বিরোধীদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সঞ্জয়। তাঁর বক্তব্য, ধর্ম ও জাতপাতের বিভাজনের রাজনীতির বদলে মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্ন সামনে আনতে চায় কংগ্রেস। এখন দেখার, ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিকে ঘিরে কংগ্রেস কতটা জনসমর্থন সংগঠিত করতে পারে এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে কতটা চাপ তৈরি হয়।





