নয়াদিল্লী, ২৭ অক্টোবরঃ রাজনৈতিক প্রতিবাদের মঞ্চ বনাম ব্যবসার বাজার। এই সংঘাতেই নতুন করে উত্তাপ ছড়াল রাজধানী দিল্লিতে। আগামী ১ নভেম্বর বিরোধীদের প্রস্তাবিত কর্মসূচি ঘিরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে ফের কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হল চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকেও চিঠি পাঠিয়ে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তাদের দাবি, ওই দিন জমায়েতের জেরে দিল্লির ব্যবসায় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।
সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ১ নভেম্বরের কর্মসূচিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে। রামলীলা ময়দান সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বাসের উপস্থিতির সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন তিনি। এর ফলে ওই এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। তাঁদের বক্তব্য, উৎসবের মরসুমে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবরের একটি কর্মসূচিকে ঘিরেও দিল্লিতে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছিল বলে দাবি সিটিআইয়ের। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, সেদিনই ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী ১ নভেম্বরের কর্মসূচিতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। যদিও ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাবটি ব্যবসায়ী সংগঠনের অনুমান, চূড়ান্ত হিসাব নয়।
এর আগেও রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ কর্মসূচি ১০ নভেম্বরের পরে করার আবেদন জানিয়েছিল সিটিআই। তাদের যুক্তি ছিল, ধনতেরাস ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বাজারে সোনা-রুপো, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, মিষ্টি-সহ বিভিন্ন পণ্যের বিপুল বেচাকেনা হয়। সেই সময় দোকানপাট বন্ধ বা যান চলাচল ব্যাহত হলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সিটিআইয়ের প্রস্তাবে এখনও সাড়া মেলেনি। রাহুল গান্ধী এর আগে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হলে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেমে যেতে পারে। সেই অবস্থানের পর ফের চিঠি দিয়ে রাহুল ও খাড়্গেকে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার এবং উৎসবের মরসুমে ব্যবসা সচল রাখার প্রশ্ন দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কী ভাবে হবে, এখন সেটাই দেখার। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই নতুন চিঠি নিয়ে রাহুল বা কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।






