শীতলকুচি, ২৭ অক্টোবর : ‘ভগবান যখন দেন, ছাপ্পর ফাড়কে দেন!’—এই প্রবাদ যেন আরও একবার সত্যি হয়ে ধরা দিল শীতলকুচির খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ সরকারের জীবনে। সামান্য বাঁশের ব্যবসা করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন তিনি। চোখে ছিল পরিবারের হাল ফেরানোর স্বপ্ন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ইচ্ছা। আর সেই স্বপ্নের মাঝেই ডিয়ার লটারিতে এক কোটি টাকা জেতার খবর বদলে দিল তাঁর জীবনের সমীকরণ। প্রায় ৫০০ টাকার লটারির টিকিট থেকে কোটিপতি হওয়ার এই খবর ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে আনন্দ ও কৌতূহল।
বিকাশ সরকারের জীবনের গল্পটা আসলে বহু সাধারণ মানুষের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের পরিশ্রম, সংসারের দায়িত্ব আর ভবিষ্যতের চিন্তা—এই নিয়েই কাটত তাঁর দিন। সামান্য বাঁশের ব্যবসা করে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশা কখনও ছাড়েননি।
জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে থেকে লটারির টিকিট কাটতে শুরু করেন বিকাশ। লক্ষ্মীপুজোর সময় বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করে সংসারের অভাব দূর হওয়া এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করেছিলেন তিনি। এরপর সোমবার প্রায় ৫০০ টাকার লটারির টিকিট কাটেন। আর সেই টিকিটেই এক কোটি টাকা জেতার খবর আসে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর অনিশ্চয়তার মাঝে এমন খবর তাঁর কাছে যেন একরাশ আনন্দ ও স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
সামান্য টাকার টিকিট থেকে কোটি টাকা জেতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিকাশকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে সেই পরিচিত প্রবাদ—‘ভগবান যখন দেন, ছাপ্পর ফাড়কে দেন!’ তবে এই আনন্দের নেপথ্যে রয়েছে একজন সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াই, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
এক কোটি টাকা জেতার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বিকাশের। জানা গিয়েছে, লটারির টাকা দিয়ে জমিজমা কিনতে চান তিনি। সন্তানদের সুখে-শান্তিতে রাখতে চান। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কিছু টাকা ব্যাঙ্কে জমা করে রাখতে চান, যাতে জীবনের শেষ দিনগুলো আর্থিক নিরাপত্তার মধ্যে কাটাতে পারেন।
বিকাশের এই পরিকল্পনাই বুঝিয়ে দেয়, তাঁর কাছে এই অর্থ শুধু বড়লোক হওয়ার সুযোগ নয়, বরং পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার একটি বড় অবলম্বন। যে মানুষটি এতদিন সামান্য বাঁশের ব্যবসার আয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করেছেন, তাঁর কাছে এই প্রাপ্তি নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।
অভাবের দিনগুলো হয়তো এক মুহূর্তে মুছে যাবে না, কিন্তু এই অর্থ পরিবারের আগামী দিনগুলোকে আরও সুন্দর করে তোলার সুযোগ এনে দিতে পারে। সংসারের দুশ্চিন্তা থেকে স্বস্তি, অনিশ্চয়তা থেকে নিরাপত্তা—বিকাশ সরকারের কাছে এক কোটি টাকা জেতার আনন্দের অর্থ যেন এটাই।
মাত্র ৫০০ টাকার টিকিট, আর সেখান থেকেই এক কোটি টাকা জেতার খবর! শীতলকুচির খেজুরতলা গ্রামের বিকাশ সরকারের এই কাহিনি এখন নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, সাধারণ মানুষের কাছে ভাগ্যবদল মানে শুধু অর্থপ্রাপ্তি নয়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্নও। কীভাবে এল এই সুখবর, আর লটারিতে কোটি টাকা জিতে আগামী দিনের জন্য কী পরিকল্পনা তাঁর—শুনুন বিকাশ সরকারের নিজের মুখ থেকেই।





