কলকাতা, ১৯ অক্টোবরঃ অঞ্জলির মন্ত্র, শঙ্খধ্বনি আর ১০৮ পদ্ম-প্রদীপের আলোয় মহাষ্টমীর আবহ। কোথাও দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, কোথাও সন্ধিপুজোর বিশেষ আয়োজন। আর বেলুড় মঠে ভক্তির অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পুজো। সোমবার সকালে ৫ বছর ৯ মাস ২১ দিনের দেবাদৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উমারূপে আরাধনা করা হল রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের এই ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণে। প্রথা ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে মহাষ্টমীর সকালে মেতে উঠল বেলুড় মঠ।
দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাষ্টমী। তিথি মেনে সোমবার ভোর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলি। দেবীর কাছে প্রার্থনা জানাতে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় জমে মণ্ডপে মণ্ডপে। মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে ১০৮ পদ্ম ও প্রদীপের বিশেষ আয়োজনে সম্পন্ন হয় সন্ধিপুজো। চিরাচরিত ধর্মীয় রীতি মেনে দিনভর চলে পুজো-অর্চনা।
বেলুড় মঠে কুমারী পুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ থাকে। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার ভোরে মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীর পুজো। তার পর কুমারী পুজোর জন্য বেনারসি শাড়ি ও গয়নায় সাজিয়ে তোলা হয় ছোট্ট দেবাদৃতাকে। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রামকৃষ্ণদেবের মন্দিরে। সেখান থেকে মঠের স্বেচ্ছাসেবকদের কোলে চেপে দুর্গামণ্ডপে পৌঁছয় কুমারী। নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে সমস্ত ধর্মীয় রীতি মেনে শুরু হয় আরাধনা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ ও শক্তির প্রকাশ কল্পনা করা হয়। সেই বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং জগজ্জননীর আরাধনা। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভাবধারায় কুমারী পুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই বেলুড় মঠের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, ভক্তদের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতিরও উপলক্ষ।
অন্য দিকে, উত্তর কলকাতার বাগবাজার সর্বজনীনে মহাষ্টমীর সকালে সাবেকি প্রতিমাকে ঘিরে ভক্তদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। ১০৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় পুরনো কলকাতার বনেদিয়ানা ও শারদীয় সংস্কৃতির ছাপ আজও স্পষ্ট।
কাঁথিতে নিজের এলাকার পুজোয় ধূপ-ধুনো নিয়ে আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মায়ের কাছে প্রার্থনা জানান, পুজোর দিনগুলিতে যেন আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।
সব মিলিয়ে মহাষ্টমীর সকাল জুড়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে ধরা পড়ল ভক্তি, ঐতিহ্য ও উৎসবের বহুরূপী ছবি। কোথাও কুমারী আরাধনা, কোথাও সাবেকি পুজোর আবহ দেবীবন্দনায় একসূত্রে বাঁধা পড়ল বাংলার শারদোৎসব।





