শিলিগুড়ি, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ নোটিস গিয়েছে একাধিক বার। ড্রেনের উপর বেআইনি নির্মাণের একাংশ আগেই ভেঙে দিয়েছিল পুরনিগম। কিন্তু তাতেও থামেনি নির্মাণকাজ। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ হাতে নিয়ে বুলডোজার নামাল শিলিগুড়ি পুরনিগম। অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়া তৈরি তিনতলা বাড়ির বড় অংশ ভেঙে ফেলা হল শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষীনগরের ১ নম্বর গলিতে।
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় ভেস্টেড জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস এবং পুরনিগমের অনুমোদন ছাড়াই বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল সুরেন্দ্র সাহানি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা বা প্ল্যান মানা হয়নি। পাশাপাশি ড্রেনের উপরেও বাড়ির একাংশ তৈরি করা হয়েছিল।
বিষয়টি নজরে আসার পর পুরনিগমের তরফে একাধিক বার নোটিস দেওয়া হয়। নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে পুরনিগমের দাবি। ড্রেনের উপর তৈরি অংশের বিরুদ্ধে আগেই পদক্ষেপ করে তার একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও নির্মাণ নিয়ে পুরনিগমের নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
এর পরেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশের পর শুক্রবার এলাকায় অভিযান চালায় পুরনিগমের সংশ্লিষ্ট দফতর। সঙ্গে ছিল পুলিশও। বুলডোজার দিয়ে বাড়িটির একাধিক অংশ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের সময় এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য।
পুরনিগমের এই পদক্ষেপের তাৎপর্য অবশ্য শুধু একটি বাড়ি ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং সরকারি পরিকাঠামোর জায়গা দখলের অভিযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে রাস্তা, নিকাশি নালা বা ড্রেনের উপর নির্মাণ হলে তা নাগরিক পরিষেবায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই এমন নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরনিগম কড়া অবস্থান নিচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য।
পুরনিগমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং সরকারি পরিকাঠামোর উপর বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ নোটিসে কাজ না হলে পরবর্তী পদক্ষেপও যে আরও কঠোর হতে পারে, সন্তোষীনগরের এই অভিযানেই তার বার্তা মিলল।





