কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ দেওয়ালের লেখা মুছে গিয়েছে। কিন্তু সেই মুছে যাওয়া অক্ষর যেন মুছতে পারেনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক উত্তাপ। বরং তাকে আরও উসকে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী সম্মেলন ঘিরে এবিভিপির ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’ এবং তার পাল্টা এসএফআইয়ের প্রতিবাদ মিছিল দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফের মুখোমুখি হল দুই রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন।
পূর্বঘোষণা মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পতাকা হাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল করে এবিভিপি সমর্থকেরা। মিছিল থেকে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান। এবিভিপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোনও ধরনের ‘দেশবিরোধী’ কর্মকাণ্ড বা স্লোগান তাঁরা মেনে নেবেন না। ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি’র জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের আগে এই কর্মসূচিই কার্যত ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক আবহকে আরও সরগরম করে তোলে।
অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে পাল্টা মিছিল ও পথসভা করে এসএফআই এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশি প্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হন তাঁরা।
এই টানাপড়েনের কেন্দ্রে অবশ্য রয়েছে দেওয়াল লিখন। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের কিছু দেওয়াল লিখন মুছে ফেলা এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তারই পাল্টা হিসাবে এবিভিপি কর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মনীষীদের ছবি সাঁটিয়েছেন। মূল ফটকে জায়গা পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। পাশাপাশি সংবিধানের মূল সংস্করণে নন্দলাল বসুর আঁকা ঐতিহাসিক ছবিও দেওয়ালে তুলে ধরা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরেই ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবারের দুই মিছিল সেই উত্তাপে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে অবশ্য এসেছে অন্য সুর। দেওয়াল লিখন প্রসঙ্গে বাউল গানের পঙক্তি তুলে ধরে তিনি সব পক্ষকে সাধারণ মানুষের আবেগ বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা, দেওয়ালে লেখা নাম মুছে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া নাম থেকে যায়।
যাদবপুরে এখন প্রশ্ন একটাই দেওয়ালের দখল নিয়ে এই রাজনৈতিক টানাপড়েন কি থামবে, নাকি নতুন কোনও লেখা ফের জ্বালিয়ে দেবে পুরনো আগুন?





