কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বরঃ আন্দোলনের অধিকার আছে, কিন্তু সেই আন্দোলনের জেরে ব্যস্ত মহানগরের জনজীবন থমকে যেতে পারে না। কলকাতায় তিন দিন টানা অবস্থান-ধর্নার অনুমতি চেয়ে করা মামলায় এমনই ভারসাম্যের বার্তা দিল কলকাতা হাই কোর্ট। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সংগঠন ৬, ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর শহরের রাজপথে কর্মসূচি করতে চেয়েছিল। কিন্তু বুধবার আদালত জানিয়ে দিল, ব্যস্ত কলকাতায় পরপর তিন দিন দীর্ঘস্থায়ী ধর্নার অনুমতি দেওয়া কার্যত কঠিন। বরং কর্মসূচি এক দিনে নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
৩১ অগস্ট ধর্নার অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল সংগঠনটি। পুলিশের আপত্তির মূল কারণ ছিল যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা। অনুমতি না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হয় সংগঠন। বুধবার শুনানিতে সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই পালন করতে চান তাঁরা।
ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(a) ও ১৯(১)(b) অনুচ্ছেদ নাগরিকের মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। তবে এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয়। জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বার্থে প্রশাসন যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে দীর্ঘ সময় রাস্তা দখল করে জমায়েত হলে অ্যাম্বুল্যান্স চলাচল, অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণপরিবহণ সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই আন্দোলনের অধিকার এবং জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই প্রশাসনের বড় দায়িত্ব।
আদালতের পর্যবেক্ষণের পর তিন দিনের কর্মসূচি আদৌ একই ভাবে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের সামনে এখন এক দিনের কর্মসূচির বিকল্প রূপরেখা তৈরি করার প্রশ্ন।
আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে কর্মসূচির দিনক্ষণ ও পদ্ধতি নিয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশ আসতে পারে। অর্থাৎ রাজপথে প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও কত দিন, কোথায় এবং কী ভাবে সেই প্রতিবাদ হবে সেই প্রশ্নে শেষ কথা বলবে জনস্বার্থ ও আইনি বিধিনিষেধের ভারসাম্যই।





