নয়াদিল্লী, ২ সেপ্টেম্বরঃ কোন বুথে কে কত ভোট পেলেন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এই হিসাবই কি ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে? সেই প্রশ্ন ঘিরেই এ বার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ মামলা। অন্তত ১৪টি বুথের ভোট একসঙ্গে গণনার সুযোগ থাকা ‘টোটালাইজার’ প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়েছে।
উপাধ্যায়ের বক্তব্য, বুথভিত্তিক ফল প্রকাশের ফলে কোনও প্রার্থী সহজেই বুঝতে পারেন কোন এলাকার ভোটার তাঁকে সমর্থন করেছেন বা করেননি। নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে সেই তথ্য সাধারণ ভোটারদের উপর চাপ বা আক্রমণের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর দাবি, একাধিক বুথের ভোট একত্রে গণনা হলে নির্দিষ্ট এলাকার ভোটের প্রবণতা আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন হবে।
নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ২০১৬ সালে গঠিত মন্ত্রীগোষ্ঠী টোটালাইজার ব্যবহারের প্রস্তাব খারিজ করেছিল। বর্তমান নির্বাচনী কাঠামোয় বুথভিত্তিক গণনার বিধান রয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের মতে, টোটালাইজার চালু করতে হলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ ও ১৯৫১ এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১-তে সংশোধন প্রয়োজন। অর্থাৎ বিষয়টি শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কার্যকর করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন হলে আইন বদলের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার ও সংসদের।
টোটালাইজারের পক্ষে যুক্তি, ভোটারের গোপনীয়তা আরও সুরক্ষিত হতে পারে এবং ভোট-পরবর্তী প্রতিহিংসার আশঙ্কা কমানো সম্ভব। বিরোধী যুক্তি হল, বুথভিত্তিক ফলাফল নির্বাচনী স্বচ্ছতা, ফল যাচাই এবং স্থানীয় স্তরে ভোটের প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতে ইভিএম চালুর মতো নির্বাচনী সংস্কারও আইন ও বিধি পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এসেছিল। ফলে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন অসম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হল ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুথের পরিচয় আড়াল করা কতটা জরুরি, আর তাতে নির্বাচনী স্বচ্ছতার কতটা ক্ষতি হতে পারে? সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর সেই বিতর্কই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা।





