নদিয়া, ৩০ আগস্টঃ মাত্র তিন মাস বয়স। টিকা দেওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করেছিল শরীরের পরিস্থিতি। একের পর এক হাসপাতাল, চিকিৎসার চেষ্টা, শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে ১৬ দিনের লড়াইয়ে হার মানল ঋষব দাস। শনিবার, ২৯ আগস্ট মৃত্যু হয়েছে নদিয়ার হরিণঘাটার নগরউখড়া এলাকার ওই শিশুর। আর তার পরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। পরিবারের দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীদের গাফিলতি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা দেওয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট হাঁড়িপাড়া ঘোষপাড়া হেলথ সেন্টারে ঋষবকে পোলিয়ো-সহ একাধিক টিকা দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, টিকা নেওয়ার পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে থাকে। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় ১৫ আগস্ট তাকে বনগাঁ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কথা জানান। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ঋষবকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। ২৯ আগস্ট মৃত্যু হয় শিশুটির।
এর পরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিকাকরণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, টিকা দেওয়ার পর টিকাকরণ কার্ড বা সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও সিল দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মী বুলু মিত্র এবং সহকারী আশা কর্মী শিখা ভৌমিকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। এমনকি ঘটনার পর তাঁদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি।
ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুই স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে নগরউখড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে দেখা হোক। টিকার মান, সংরক্ষণ, মেয়াদ এবং প্রয়োগের প্রক্রিয়া প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ওই ঘটনার কথা জানানো হয়েছে বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম কুমার সরকার এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকেও।
শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে উঠছে আরও বড় প্রশ্ন টিকাকরণ কেন্দ্রগুলিতে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কতটা নিরাপদ? ঋষবের মৃত্যুর সঙ্গে টিকার কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনও চিকিৎসাগত কারণে এই পরিণতি তার উত্তর মিলবে তদন্তেই। আপাতত পরিবারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।






