মাথাভাঙ্গা, ২৯ আগস্টঃ সময় বদলায়। সমাজ বদলায়। বদলায় মানুষের চারপাশের পৃথিবীও। কিন্তু কিছু শব্দ, কিছু আদর্শ সময়ের সীমানা পেরিয়ে থেকে যায়। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান যেন তেমনই এক আলো। সেই আলোয় সাম্য, মানবতা আর অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ফিরিয়ে আনতেই মাথাভাঙ্গায় শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল কবির প্রয়াণদিবস।
পশ্চিমবঙ্গ কাজী নজরুল ইসলাম আকাদেমির উদ্যোগে এবং মাথাভাঙ্গা মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে মাথাভাঙ্গার মালি বাগান সংলগ্ন এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। দুই কবির মূর্তির সামনে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। যেন বাংলা সংস্কৃতির দুই মহীরুহের সামনে একসঙ্গে মাথা নোয়াল বর্তমান প্রজন্ম।
এর পর শোভাযাত্রা করে মহকুমা শাসকের সভাকক্ষে পৌঁছন সকলে। সেখানে বক্তৃতার পাশাপাশি কথায় ও গানে স্মরণ করা হয় নজরুলকে। তাঁর সাহিত্যকর্ম, বিদ্রোহী সত্তা এবং সমাজের বিভাজনের বিরুদ্ধে আজীবন উচ্চারিত মানবতার বাণী উঠে আসে আলোচনায়।
এদিনের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক সুশোভন মণ্ডল, পদ্মশ্রী গীতা রায় বর্মন, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অনির্বাণ সাঁই-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
আজকের সমাজে যখন নানা কারণে মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে, পরিচয়ের দেওয়াল উঁচু হয়, তখন নজরুলের সৃষ্টি নতুন করে মনে করিয়ে দেয় মানুষই শেষ কথা। তাঁর সাম্যের দর্শন শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি রাখার নয়, জীবনে ধারণ করার।
বক্তাদের কথায় তাই উঠে এল আগামী প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান। কারণ নজরুলকে স্মরণ করা মানে শুধু একটি প্রয়াণদিবস পালন নয় বরং বিভেদের অন্ধকারে মানবতার প্রদীপটি জ্বালিয়ে রাখা।





