পানিহাটি, ২৯ আগস্টঃ এক সময় এলাকার রাজনীতিতে তাঁদের প্রভাব নিয়ে এমনই কথা প্রচলিত ছিল বাবা-ছেলের সম্মতি ছাড়া পানিহাটিতে নাকি গাছের একটি পাতাও নড়ত না! সেই প্রভাব, সেই ক্ষমতার দিন কি তবে অতীত? খড়দহ থানার একই লকআপে বাবা-ছেলেকে দেখে অন্তত এমন প্রশ্নই উঠছে।
পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ দু’জনেই এখন পুলিশ হেফাজতে। পুলিশ সূত্রে খবর, খড়দহ থানার একই লকআপে রয়েছেন তাঁরা। মাটিতে কম্বল পেতে রাত কাটছে। সকালে চা-বিস্কুট, তার পর ব্রেকফাস্ট। দুপুর ও রাতে ভাত-রুটি, ডাল, সবজি। মেনুতে মাছ-মাংস, ডিমও থাকছে। এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সেই ছবির যেন বিস্তর ফারাক।
নির্মলকে পাজামা-পাঞ্জাবিতে দেখা যাচ্ছে। ছেলে তীর্থঙ্করের পরনে টি-শার্ট, প্যান্ট। বেশির ভাগ সময় হেলান দিয়ে বসে থাকছেন তীর্থঙ্কর। তবে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। কখনও কখনও মৃদু হাসিঠাট্টাও করছেন বাবা-ছেলে। লকআপের গণ্ডির মধ্যে তাঁদের এই স্বাভাবিক আচরণও নজর কেড়েছে পুলিশের।
অভয়ার দেহ লোপাট মামলায় গত ১৩ অগস্ট ওড়িশা থেকে নির্মলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর প্রমোটারের কাছ থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগের মামলাতেও তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্য দিকে, ২৫ অগস্ট থেকে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন তীর্থঙ্কর। শুক্রবার বারাকপুর আদালতে লটারি প্রতারণা মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ফের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। যে পরিবারকে ঘিরে এক সময় এলাকার ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেই পরিবারের বাবা-ছেলের এখন ঠিকানা থানার লকআপ।
তবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত নয়। আপাতত পুলিশের হেফাজতে পাশাপাশি দিন কাটছে দু’জনের। বাইরে বদলে যাওয়া রাজনীতি, আর লকআপের ভিতরে পাশাপাশি বসে থাকা বাবা-ছেলে পানিহাটির রাজনীতির পালাবদলের যেন এক প্রতীকী ছবি।





