কলকাতা, ১৪ আগস্টঃ মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে ঘিরে টলিউডকে এক ছাতার তলায় আনল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে নন্দনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে বসেছিল বিশেষ বৈঠক। সেখানে হাজির ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মমতা শঙ্কর থেকে গৌতম ঘোষ টলিপাড়ার একাধিক প্রজন্মের শিল্পী ও কলাকুশলী।
২০২৬ সালে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ। তাঁকে ঘিরে বছরভর একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবর্ষ বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হবে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাংলা চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা।
নন্দনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং টলিউডের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন বিজেপি বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন মিঠুন, মমতা শঙ্কর, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, প্রসেনজিৎ, গৌতম ঘোষ, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, যিশু সেনগুপ্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, কৌশানি মুখোপাধ্যায়, পায়েল সরকার-সহ অনেকে।
উত্তমকুমারের জীবন ও চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন হবে। নন্দন চত্বরে থাকবে মহানায়কের বিরল ছবি, চলচ্চিত্রের পোস্টার ও নানা স্মারক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলিকে নিয়ে হবে ‘হেরিটেজ ওয়াক’। ভারতীয় ডাক বিভাগের তরফে প্রকাশিত হবে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের বিশেষ ‘ডাক কভার’ ও স্মারকগ্রন্থ।
শুধু স্মরণে থেমে থাকছে না রাজ্য। নিউ টাউনে ‘উত্তমকুমার জন্মশতবার্ষিকী ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ‘উত্তম মঞ্চ’-এরও সৌন্দর্যায়ন ও আধুনিকীকরণ করা হবে।
বৈঠক শেষে প্রসেনজিৎ বলেন, উত্তমকুমারকে উদ্যাপন করা মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ। তাঁর কথায়, বাংলা সিনেমার ১০০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য একটি সাংস্কৃতিক হাব তৈরির পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ দিনের বৈঠকেই ঘোষণা হল ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দিনক্ষণ। আগামী ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উৎসব। তবে উৎসবের চেয়ারপার্সন কে হবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।





