সিতাই, ১১ আগস্টঃ কয়েক মাস পর নিজের বিধানসভা এলাকায় ফিরেছিলেন। সঙ্গে ছিল পুলিশের নিরাপত্তা। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের মুখে শেষ পর্যন্ত রাতেই সিতাই ছাড়তে হল কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া এবং তাঁর বিধায়ক স্ত্রী সঙ্গীতা রায়কে।
সোমবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ পুলিশের ঘেরাটোপে সিতাই বাজারের নিজেদের বাড়িতে ফিরেছিলেন বসুনিয়া দম্পতি। সংসদ অধিবেশন চলায় বেশ কিছু দিন দিল্লিতে ছিলেন জগদীশ। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কোচবিহারে ফেরেন তিনি। এরপর স্ত্রী সঙ্গীতাকে সঙ্গে নিয়ে সিতাইয়ের বাড়িতে যান।
কিন্তু তাঁদের ফেরার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। রাতেই বাড়ির সামনে এবং সিতাই বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। শুরু হয় বিক্ষোভ। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা হলেও বিক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিতাইয়ের বাড়ি ছাড়েন সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি। কোচবিহার শহরে তাঁদের ফ্ল্যাটে ফিরে যান বলে জানা গিয়েছে।
কেন ক্ষোভ?
বসুনিয়া দম্পতিকে ঘিরে স্থানীয়দের ক্ষোভের পিছনে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলই অন্যতম কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে থাকা জগদীশ বর্মা বসুনিয়া বর্তমানে দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। অন্য দিকে, জগদীশের ছেড়ে যাওয়া সিতাই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায়।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীতার অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে এবং ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরের দিকে তিনি ঝুঁকছেন এমনই আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একই পরিবারের দুই জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক শিবির বদল ঘিরে সিতাইয়ের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেই দাবি স্থানীয়দের। সোমবার রাতের বিক্ষোভকে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিক্ষোভের পিছনে থাকা স্থানীয়দের নির্দিষ্ট অভিযোগ এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনায় এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া কিংবা সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়।
ভোটের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। বদলেছে শিবিরও। আর সেই বদলের অভিঘাত যে এবার সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে, সিতাইয়ের সোমবার রাতের ঘটনা তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





