আসানসোল, ৪ আগস্টঃ একে একে তৃণমূল ছেড়েছেন একাধিক সাংসদ। সেই আবহেই বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রীর পাশে একই মঞ্চে দেখা গেল আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাকে। মুহূর্তেই শুরু হয় দলবদলের জল্পনা। তবে মঞ্চ থেকেই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন অভিনেতা-সাংসদ “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
সোমবার আসানসোলের চাঁদমারি রাইফেল ক্লাবে ৫৮তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। একই মঞ্চে ছিলেন কুলটির বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দার এবং আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। শাসক ও বিরোধী শিবিরের তিন রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে একসঙ্গে দেখে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন জল্পনা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শত্রুঘ্ন সিনহার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। বিশেষ করে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের দলত্যাগের পর তাঁর নামও সেই তালিকায় উঠে আসছিল। কিন্তু এদিন তিনি সেই জল্পনা একেবারেই উড়িয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, “ওয়ান্স এ ফ্রেন্ড, অলওয়েজ এ ফ্রেন্ড। আমি একটি খোলা বইয়ের মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
দলত্যাগ প্রসঙ্গে পরোক্ষ মন্তব্যও করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর কথায়, ভয়, চাপ বা অন্য কোনও কারণে যারা রাজনৈতিক দল বদল করছেন, তাঁদের ভাবা উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে। যদিও তিনি কোনও ব্যক্তি বা দলের নাম উল্লেখ করেননি।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা দেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত এবং আসানসোলের উন্নয়নের স্বার্থে সব পক্ষের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। শত্রুঘ্ন সিনহাকে ‘আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিত্ব’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে খেলার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করা হয়। রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পদকজয়ী শুটারদের অনারারি ডিএসপি পদে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাইফেল ক্লাবের জন্য আবাসিক হোস্টেল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবন তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়। রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই শত্রুঘ্নের স্পষ্ট বার্তা আপাতত দলবদলের প্রশ্নই নেই।





